বুধবার নিউ ইয়র্কের জ্যামাইকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইউনাইটেড স্টেটস–বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ইউএসবিসিসিআই) প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী মো. লিটন আহমেদ মেলার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই বছরের এক্সপো পূর্বের সব আয়োজনকে ছাড়িয়ে যাবে এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
ইউএসবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট মো. লিটন আহমেদ উল্লেখ করেন, "এবারের মেলায় আগের বছরের তুলনায় বেশি সংখ্যক ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী এবং দুই দেশের নীতিনির্ধারক অংশ নেবেন।" তাঁর মতে, চতুর্থ ইউএসবিসিসিআই বিজনেস এক্সপো ও গ্লোবাল এসএমই ফেয়ার হবে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক আরও জোরদার করার একটি বড় সুযোগ।
এই মেলার কার্যক্রম কেবল পণ্যের প্রদর্শনীতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এটি একটি মাল্টি-ফাংশনাল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। মূল কার্যসূচি এবং লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে:
পণ্য ও সেবার প্রদর্শন: বিভিন্ন খাতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার (এসএমই) পণ্য ও সেবার প্রদর্শন করা হবে, যা বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে নিজেদের পরিচিত করার সুযোগ দেবে।
সরাসরি সংযোগ (B2B): ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে দ্রুত ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব এবং চুক্তির সুযোগ তৈরি হবে।
সেমিনার ও আলোচনা: ট্রেড, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি বিনিময়, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, নারী উদ্যোক্তাদের চ্যালেঞ্জ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার এবং প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এই সেশনগুলি দুই দেশের ব্যবসার পরিবেশ এবং সুযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞান প্রদান করবে।
গ্লোবাল বিজনেস এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড: মেলা শেষে দুই দেশের সফল ও ব্যতিক্রমী ব্যবসায়িক নেতৃত্বকে স্বীকৃতি জানাতে ‘গ্লোবাল বিজনেস এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হবে।
আয়োজক সংগঠনের পরিচালক শেখ ফরহাদ এই মেলার কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, "এই এক্সপো শুধু প্রদর্শনী নয়, বরং বি-টু-বি মিটিং, ব্যবসায়িক সেমিনার, নেটওয়ার্কিং এবং অ্যাওয়ার্ড প্রদানের মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।" তিনি বিশ্বাস করেন, একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্কিং ইভেন্ট হিসেবে এটি অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী ব্যবসায়িক সম্পর্ক স্থাপনে সহায়তা করবে।
পরিচালক আহাদ আলী মনে করেন, এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বাংলাদেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার এক অনন্য সুযোগ পাবে। তাঁর মতে, প্রবাসী বাংলাদেশিরা এই প্ল্যাটফর্ম থেকে সর্বাধিক উপকৃত হবেন, কারণ এটি তাদের জন্য নতুন বিনিয়োগের পথ তৈরি করবে এবং মূলধারার ব্যবসায় নিজেদের প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ দেবে।
অন্য পরিচালক ইসমাইল আহমেদ এই উদ্যোগের মাধ্যমে এসএমই উদ্যোক্তাদের পাশে থাকার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে এসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য এমন একটি সেতুবন্ধন তৈরি করা, যেখানে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও বৈশ্বিক বাজারে টেকসই ব্যবসা গড়ে তুলতে পারবেন। এটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত এসএমই খাতের জন্য অপরিহার্য।"
এছাড়া পরিচালক মো. বদরুদ্দোজা সাগর আশা প্রকাশ করেন যে, এই এক্সপো বাংলাদেশের এসএমই খাতকে বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ করে দেবে এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন বিনিয়োগের পথ খুলে দেবে। তিনি এই আয়োজনের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ীর সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার সম্ভাবনায় আশাবাদী।
সার্বিক দিক বিবেচনায়, নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিতব্য এই চতুর্থ ইউএসবিসিসিআই বিজনেস এক্সপো-২০২৫ কেবল একটি বাণিজ্যিক ইভেন্ট নয়, বরং দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বের এক নতুন মাইলফলক।
© 2025 NRB. All Rights Reserved.